অনলাইনে ইনকামের চৌদ্দগুষ্টি এর নবম পার্ট

আসসালামু আলাইকুম,

আপনাদেরকে যন্ত্রণা দিতে আমি আবার হাজির অনলাইনে ইনকামের চৌদ্দগুষ্টি এর নবম পার্ট নিয়ে, একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন কি সেপ্টেম্বরের নবমতম মাস এবং ইংরেজিতে সেপ্টেম্বর লিখতে গেলে 9 টি অক্ষরের ব্যবহার করতে হয়, ব্যাপারটা বেশ মজা তাই না।😂

আজকে আমরা কথা বলবো, আপওয়ার্ক একাউন্ট এবং আপওয়ার্কে বিড করার কিছু পদ্ধতি নিয়ে।

যারা আগের লেখাগুলো পড়েন নি তাদেরকে বলব আগে লেখাগুলো পড়ে নেন তাহলে অনেক সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য।

বরাবরের মতো একটা কথা না বললেই নয়, একাউন্ট ক্রিয়েশন করা বা বিড করা মূল বিষয় নয় মূল বিষয় হচ্ছে দক্ষতা অর্জন করা, মনে রাখবেন দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আপনাকে কাজের সে ছুটতে হবে না কাজ আপনার পিছনে ছুটবে।🤗

হঠাৎ করে আজ কেন এ কথাটা বললাম ?এ কথা এর আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি?
ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলছি, এর আগে কথা বলেছিলাম ফাইবার নিয়ে।
যেখানে তুলনামূলকভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা অনেক সহজ এবং বাংলাদেশী হিসেবে অ্যাপরুভাল পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না,😁

কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে আপওয়ার্কে, আমার একটা ব্যক্তিগত অভিমত আছে।
আপওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার থেকে নিয়ে তেমন একটা কেয়ার করেনা যারা আছেন তো আছেনই নতুন করে না আসলে বরং তাদের জন্য ভালো, কেন জানেন?🤷‍♂️🤷‍♂️

আপওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম থাকে যে গুটিকয়েক মানুষ দূষিত করেছে তার ভেতরে আমরা বাঙালিরা মুখ্য।

তাই আমাদের ক্ষেত্রে তারা এতটা উদাসীন, আগে একটা সময় আপওয়ার্কে (যখন কিনা ওডেস্ক ছিল)
সীমাহীন** কাজের জন্য বিড করা যেত, সময়ের সাথে সাথে সেটা কমে আসতে আসতে এখন বিট করে কাজ নামাতে হলে আগে পয়সা খরচ করতে হবে।😢

** এই সীমাহীন শব্দ টা নিয়ে অনেকে হয়তো বা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, আমি 2006 সালের কথা বলছি আর তখন আমি কোন মাসে বিট করে কোটা ফিলাপ করতে পারিনি, বলে রাখা ভালো আমি কিন্তু ইচ্ছামত বিট করতাম তখন।😎😎

আচ্ছা যাই হোক এবার আপওয়ার্কে একাউন্ট করার পদ্ধতিনিয়ে আপনাদের সাথে একটু আলোচনা করি,
আর যা প্লাটফর্ম এর মত এখানেও আপনি শুধুমাত্র একটি ইমেইল দিয়ে প্রথমে শুরু করলেও কিন্তু তারপরে অনেকগুলো ধাপ পেরুতে হতে হবে😊

সে ধাপগুলোর ভিতর যে বিষয়গুলো আছে আমার আগের লেখাগুলোতে ফাইবার একাউন্ট করার সময় আপনি কিভাবে একাউন্ট করবেন কি কি বিষয় যোগ করবেন কি কি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে ঠিক একই ভাবে এখানেও সেই কাজগুলো করতে হবে।

তারপরও আপনাদের সুবিধার্থে ছোট্ট করে বলে দিচ্ছি,

আপনার নাম ঠিকানা শিক্ষাগত যোগ্যতা কারিগরি দক্ষতা কোন ট্রেনিং বা কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট এবং খুব সুন্দর একটি ডিসক্রিপশন ও প্রোফাইল পিকচার সিলেকশন করতে হবে।👍
প্রোফাইল পিকচারের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পিকচার দিতে আপনার চেহারা স্পষ্ট দেখা যায় এবং আপনি যেন কিছুটা হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকেন।😃

ডিসক্রিপশন এর ব্যাপারে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যেন ডিসক্রিপশন এর ভিতরে আপনার সবগুলো কথা ফুটে উঠাতে পারেন,
কোথায় কাজ করেছেন কি কি কাজ করেছেন কোন কোন কাজের অভিজ্ঞতা আছে,
আপনি কাজটি কিভাবে করতে চান এবং আপনি এই ফিল্ডে কি কি ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন।

এই কথাগুলো যদি পয়েন্ট আকারে এবং সাজিয়ে লেখ তাহলে কিন্তু বেশ মানানসই হয়,
যে কেউ আপনার লেখা পড়ে এবং ছবি দেখে যদি আকর্ষণ অনুভব করে তাহলে কিন্তু আপনি সফল।

ক্যাটাগরি সিলেকশন এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা ব্যবহার করতে হবে কারণ এই ক্যাটাগরি সিলেকশন করার সময় যদি আপনি সঠিক ক্যাটাগরিগুলো সিলেকশন করতে পারেন তবে কিন্তু আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

ফাইবার এর মত আপন আর কে কিন্তু গিগ/ পসরা সাজিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না।
বরংচ আপনি এখানে অপেক্ষা করবেন তখন একজন ক্রেতা তার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে কাজটি আপওয়ার্কে জমা দিবেন,
এবং আপনি সে কাজটি সম্পূর্ণ বর্ণনা করে যদি আপনি কাজটি করতে ইচ্ছুক হন তাহলে আপনি সেই কাজটি তে বিড করবেন।😍

বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তাই না?

ধরুন আমাদের বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য পত্রিকায় একটি ইশতেহার দিলেন,
তখন কিন্তু অনেক মানুষ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাঠামো এবং বর্ণনা নিয়ে গবেষণা করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে টেন্ডার ড্রপ করবে।

সেখান থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অধিকারীরা বাছাই করে সবচাইতে ভালো ঠিকাদারকে কাজ দেবেন।

আপওয়ার্কে ঠিক একইভাবে আপনি প্রত্যেকটি কাজের বিবরণ পড়ে বা বুঝে শুনে তারপর সে কাজটির জন্য বায়ারের কাছে বিট করবেন।🤞

পদ্মা সেতুর কাজটি পাওয়ার জন্য ঠিকাদাররা যেমন টেন্ডার ড্রপ করে বিস্তারিত বর্ণনা লেখে যে তারা কাজটি কতদিনে সারবে কতদিন টিকবে কাজটি করে দেওয়ার পর ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনিও ঠিক একই ভাবে সেই বায়ারের কাছে একটি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলবেন যে আপনি কাজটি কিভাবে করবেন কতদিন লাগতে পারে এবং কাজটি করার পর তার থেকে কি ধরনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে, আর এই লেখাটিকে বলা হয় কভার লেটার।👌

জ্ঞানীগুণীরা বলেন যে এই কভার লেটার এর উপরে 90% নির্ভর করছে যে আপনি কাজটি পাচ্ছেন কি পাচ্ছেন না?
তাই এ কভার লেটারটি অত্যন্ত সুন্দর হলে কিন্তু আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

আজকে একটি কথা আবার বলছি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ পাওয়া কোন একটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে না, অনেকগুলো কাজের সমন্বয় আপনি একজন ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন।

এই সমষ্টিগত সমন্বয়ের তাল মিল টা সবচাইতে ভালো যে করতে পারবে সেই সবচেয়ে সফল হতে পারবে এই সেক্টরে,👍

কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটা জিনিস জরুরী সেটা হচ্ছে টাইমিং, যার টাইমিং যত বেশি ভালো তার কাজ করার সম্ভাবনা তত বেশি।

উদাহরণ দিয়ে বলি?

ধরুন আপনি 5 জন লোক কে একটি কাজ করার জন্য ইন্টারভিউ দেখেছেন, সেখান থেকে বাছাই করে শুধুমাত্র একজন লোক কি আপনি কাজটি দিবেন।

ইন্টারভিউ কল করার পর পরই একটি লোক আপনার সাথে যোগাযোগ করলো এবং সে এই কাজটি করার জন্য আগ্রহী তাও জানালো এবং এ কাজটি সে আগেও করেছে তাও বলল তার সাথে আরো বেশ কয়েকটি লোকের রিকমেন্ডেশন আপনাকে জানালো সর্বোপরি তাঁর কাজের কিছু নমুনাও আপনাকে দেখালো।

এবার কথা হচ্ছে আপনার যদি সবকিছু ভালো লাগে আপনি কি আর বাকি ইন্টারভিউ ক্যান্ডিডেটদের জন্য অপেক্ষা করবেন?🤔🤔
আমি হলে কিন্তু করতাম না, যাকে পছন্দ হয়েছে তাকে কাজগুলো দিয়ে দিতাম।

ঠিক একই ভাবে আপওয়ার্কে আপনি যদি সবার প্রথমে আপনার কভার লেটার ড্রপ করতে পারেন, তাহলে কিন্তু কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বেশ।💖💖

আজ আর না, অনেক কথা বলে ফেলেছি কাল বলব কিভাবে একটি সুন্দর কভার লেটার লিখবেন।
এবং কিভাবে আপনি আপনার প্রোফাইলের ভ্যালু বৃদ্ধি করবেন।

সে পর্যন্ত পাশে থাকবেন সঙ্গে থাকবেন,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here