অনলাইনে ইনকামের চৌদ্দগুষ্টি এর চতুর্থ পর্ব

আসসালামু আলাইকুম,
অনলাইনে ইনকামের চৌদ্দগুষ্টি এর চতুর্থ পর্ব নিয়ে আপনাদেরকে জ্বালা দিতে,
আমি আবার হাজির ।😜

আজকের বিষয়টা বেশ চটকদার, আজ আমরা কথা বলবো বহুল আলোচিত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইবার নিয়ে। 😍😍

এর আগের লেখাগুলোতে অনলাইনে ইনকাম কি কেন কিভাবে এবং ফ্রিল্যান্সিং কি তার সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

যদি কেউ আগের লেখাগুলো না পড়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে আগের লেখাগুলো পড়ে নিন তাহলে আজকের লেখাটা আপনি সহজে বুঝতে পারবেন।

আচ্ছা মার্কেটিং অনেক হয়েছে এবার কনটেন্ট এ আসি। 😜

ফাইবার বছর কয়েক আগে অনলাইন দুনিয়ায় তার পা রাখে,
খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পিছে একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ফাইবারের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে সিস্টেম ও দর মূল্য।

চারিদিকে যখন আপওয়ার্কের জয়জয়কার তখন ফাইবার এক নতুন পদ্ধতি ও নতুন দরমূল্য নিয়ে বিশাল এক চমক সৃষ্টি করে,

প্রথমত ফাইবারে সর্বনিম্ন কাজের মূল্য ছিল মাত্র 5 ডলার, এই বিষয়টি অসংখ্য বায়ারকে শুধুমাত্র মনের কৌতূহল মেটাতে এ প্লাটফর্মে আসেন 5 ডলার দিয়ে একটি কাজ করিয়ে শুধু দেখার জন্য আসলে ফলাফল টা কেমন হয়। 🤔🤔

মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাঁচ ডলারের কাজ করেও অসংখ্য সন্তুষ্ট কাস্টমার বা বায়ার লাইন সৃষ্টি হয়ে গেল।

ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠল ফাইবার,
আরেকটা বিশাল পরিবর্তন ছিল ফাইবারের, আপনি কাজ করতে গেলে আপওয়ার্কের মতো প্রতিটি কাজে বিড করতে হয় না।

বরঞ্চ আপনি আপনার গিগ/ বা প্রোফাই্ল সাজিয়ে অনেকটা পথ দোকানের মত প্রদর্শন করে অপেক্ষা করবেন খরিদ্দার বা বায়ারের।

তবে বায়াররা অনেক সময় বায়ার রিকোয়েস্ট সেন্ড করে যায়, যদি আপনার গিগ বায়ার রিকুয়েস্ট সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তাহলে আপনি আপনার ড্যাশবোর্ড এর সাথে বায়ার রিকোয়েস্ট অপশনটিতে সেই বায়ার এর রিকোয়েস্ট গুলো দেখতে পারবেন।

সর্বোচ্চ 10 বিট করা যায় প্রতি 24 ঘন্টায়।
একটি ফাইবার আইডির আন্ডারে সর্বোচ্চ 7 টি গিগ করা সম্ভব।

অর্থাৎ ফাইবারে আপনি যদি আপনার সাতটি গিগ হতে যে কোন একটি গিগ একটি নির্দিষ্ট কি ওয়ার্ড এর সাথে রেংকিং করতে পারেন তাহলে কোন বায়ার যখন ফাইবারের সার্চ অপশনে গিয়ে ওই কি-ওয়ার্ড লিখে সার্চ দিবে তখন সর্বপ্রথম আপনার গিগ টি থাকবে । 😎😎

সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বহুগুণ,
অনেকটা এসইও করার মত, যদি এসইও কি না বুঝে থাকেন তাহলে সাথে থাকুন খুব শীঘ্রই আমি এসইও কি কেন কিভাবে তা নিয়ে লিখব ।👍👍

ফাইবার ফাইবার এ কিভাবে গিগ রেংকিং করতে হয় এটা নিয়ে আজ বলবো আর ফাইভারে কাজ পাওয়ার জন্য কিছু ট্রিকস এন্ড টিপস থাকবে আগামী পর্বে।

ফাইবার এর জন্য আপনি নিচের কাজগুলো করতে পারেন,
প্রথমত আপনি ফাইবারে আপনার অ্যাকাউন্টটি যখন তৈরি করবেন তখন একাউন্ট এর সকল তথ্য সঠিক প্রদান করবেন।

আপনার কাছে যদি কোন প্রকার কাজের সার্টিফিকেট বা অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে সে অভিজ্ঞতাগুলো সম্বন্ধে এবং সেই সার্টিফিকেটগুলো একাউন্টে যুক্ত করে দিবেন।

আপনার ইউজারনেম এবং ছবি নির্বাচন করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাখবেন ছবির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব যতটা সম্ভব সাবলীল ও স্বাভাবিক ছবি দেবেন ততই বেশি ভালো,

পিছের ব্যাকগ্রাউন্ড এর কথাটা মাথায় রাখবেন, আপনি যে কক্ষে বসে কাজ করেন বা আপনার ওয়ার্কিং স্টেশন টা যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকে তাহলে বেশ সুন্দর হয়। 😘😘

ইউজার নেম এর ক্ষেত্রে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন ইউজারনেম টি যতটা কিনা আপনার ক্যাটাগরির সাথে ম্যাচ করবে ততটা সহজ হবে ফাইবারের অ্যালগরিদমি বা ফাইবারের কর্মপদ্ধতি সাথে ম্যাচ করার, কি বুঝতে কষ্ট হচ্ছে? 🤷‍♂️🤷‍♂️

আচ্ছা ঠিক আছে সহজ করে বলছি, ধরেন আপনি এস ই ও এর কাজ করেন, এবার আপনার ইউজারনেম যদি হয় seo_shialpondit তাতে কি হবে জানেন?

যখন বায়াররা এস ই ও এই কী ওয়ার্ড লিখে ফাইবারে সার্চ করবে তখন সেই সার্চে আপনার নাম অর্থাৎ আপনার গিগ উপরে ওঠার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।😁😁

আইডি সেট আপ শেষ এবার আসি গিগ কিভাবে বানাবেন।

আচ্ছা গিগের ক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে গিগ দুধরণের হয় একটা ইমেজ গিফ আরেকটা হচ্ছে ভিডিও গীত।

যারা এনিমেশনে কথা চিন্তা করছেন – হ্যাঁ সেটাও সম্ভব তবে এখানে একটা সময় সীমা আছে।
আপনার ভিডিও গীত টির সময়সীমা হচ্ছে 75 সেকেন্ড, এবং এর সাইজ অবশ্যই 50 মেগাবাইট এর নিচে। 🤗🤗

গিগ এর টাইটেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে রাখবেন ঠিক আপনার ইউজার নেম এর মত আপনার টাইটেল টু কিন্তু রেঙ্ক করার সময় অত্যন্ত কাজে দেবে।
তাই চেষ্টা করবেন টাইটেল দিতে জানো আপনার স্কিল রিলেটেড
কি- ওয়ার্ড টি রাখতে পারেন
সে ক্ষেত্রে আপনার অনেক হেল্প হবে।

এবার হচ্ছে কী ওয়ার্ড সেটআপ আপনি যখন আপনার গীগ সেট আপ করবেন তখন একটি পর্যায়ে এসে আপনার স্কিলের উপর ডিপেন্ড করে পাঁচটি কী ওয়ার্ড সেট- আপ করতে পারবেন।

কী ওয়ার্ড গুলো নির্বাচন করার সময় সতর্ক থাকুন কারণ,
এই কী-ওয়ার্ড গুলোই আপনার মেইন সোর্স অফ অপটিমাইজেশন হিসেবে গণ্য হবে।💖

মনে রাখবেন আপনার গিগের পিকচার বা ভিডিওটি যতটা আকর্ষণীয় হবে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ততটা বেড়ে যাবে,
তাহলে তো খালি পিকচারটা ভালো হলেই চলে?

না মোটেও না আপনাকে ফাইবার রেঙ্কে নিবে শুধুমাত্র একটি বিষয়ের উপরে নির্ভর করে না,
ফাইবার আপনাকে রাঙ্কিং দিবে সব গুলো বিষয়ের সমন্বয় সর্বশ্রেষ্ঠ যার তাকে।

তবে একটা সিংহভাগ পালন করে এই পিকচার অথবা ভিডিওটি।

যথাসম্ভব প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে যদি গিগের পিকচারটি তৈরি করতে পারেন তাহলে তো ভালই হয়,
আরো বেশি ভালো হয় যদি আপনি নিজেই নিজের গিগ টি বানাতে পারেন।

গিগের পিকচার বা ভিডিও কি রকম হতে পারে সে সম্বন্ধে ধারণা নেয়ার জন্য আপনি যেই স্কিলের উপর কি ওয়ারদ দিয়ে রেঙ্কে যেতে চাচ্ছেন সেই কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে দেখুন।

টপ 20 বা টেন এর প্রোফাইল এবং এগুলো তাহলে আপনার ধারণা অনেক বেড়ে যাবে।

মিনিমাম রিসার্চ টা যদি করে নেন তাহলে আপনি ভালো ফলাফল আশা করতে পারেন, 💖💖

আমি এবং আমরা সাতটা ফাইবার একাউন্টে 21 টি গীত এ, একসাথে কাজ করা শুরু করি এবং এক সাথে মার্কেটিং করতে শুরু করি ।

সেই সব গুলোর মাঝে একটা বিষয় ছিল আন কমন আর সেটা হচ্ছে রেংকিং স্ট্র্যাটেজি।

আমরা এক একটি জন্য এক একটা পদ্ধতি ব্যবহার করেছি সেখান থেকে একটি গিগ ফাস্ট রেংকিং করেছে। 😍😍😎😎

আরেকটি গিগ থার্ড রাঙ্কিং এ আছে, 😍😎
বাকি প্রত্যেকটা গিগ প্রথম পাতায় আছে কিন্তু বেশ নিচে তাই তাদের কথা বা নাই বা বলি,

কিন্তু যে দুটো রেংকিং পেয়েছে সেগুলো কিভাবে পেয়েছে কিভাবে সবার উপরে উঠল এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আগামীকাল, তাই সাথে থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here