ঈদের সেকাল আর একাল......

আমরা যারা ৯০ দশকে জন্ম নিয়েছি তারা হয়তো ঈদের আনন্দ নিয়া সর্বশেষ প্রজন্ম। শবে বরাতের পর থেকে রোজার জন্য অপেক্ষা। রোজা রাখবো উৎসব ভাব। যদিও ছোট বলে রাখতে দিতো না। কত মিথ্যা কথা বলে খাওয়ানো লাগতো। বলতো আমাদের নাকি ৬০ রোজা তাই দুপুরে খেয়ে একটা ভাংতে হয়। একটু বড় হলে বলতো দুইদিনে অর্ধেক করে রাখতে হবে। এখনকার শিশুদেরও রাখতে দেয় না। কারন টা আমাদের মত না। কারন হলো তাদের পড়ালেখায় ক্ষতি হবে। তারপর ঈদের কেনাকাটার কথাই ধরা যাক। কে কয় সেট কিনলাম বা কী কিনলাম সেটা মুখ্য ছিলো না। কোথায় লুকিয়ে রাখবো সেটাই আসল। কারো সাথে মিললো নাতো। কেউ দেখে ফেলেনাইতো। ছোট মানুষ ছোট স্বপ্ন। একটা জুতা কিনার খুব শখ ছিলো হাটলে শব্দ হয়, আর একটা ছিলো লাইট জ্বলতো। এখনকার যুগে প্রতিযোগীতা চলে কে কয়টা কিনছে, কত দামী কিনছে। ফুটপাত দিয়া কিনলেও সন্তানের মুখে হাসি থাকতো, স্ত্রীর মুখে থাকতো হাসি। এখন লাখ টাকার পোশাকেও মন ভরে না। ঈদের নামায শেষে দল বেধে পাড়াপ্রতিবেশীর বাসায় যাওয়া নতুন দুটাকা একটাকার নোট সালামী নিয়া আর সেমাই নুডুলস খাওয়া। চটপটি হালিম ছিলো গুলশান বনানীর অভিজাত মানুষের ঘরে। তখন ঈদের আগে ঈদ কার্ডের দোকান বসত। কত উৎসব নিয়া কার্ড বেচাকেনা হতো। আর এখন মুখবইতে সবাই ছবি পাঠিয়ে দেয়। ঈদের দিন কাটে ঘরে। প্রতিবেশীর ঘর সে যেন ভারত পাকিস্থান বর্ডার। ঈদের ড্রেস আগেই মুখবইতে দিয়া হয় আর ভেংচি মারা মুখ তুলে বলা হয় কেমন হলো উগান্ডা ফ্রান্স। আমিও অবশ্য এর ব্যতিক্রম নই । যুগের হাওয়া লেগেছে।
বড় ভালো ছিলো সেসব দিন গুলো। হারিয়ে গিয়েছে কোথায় কে যানে। এই জেনারেশন গুলো অনেক বেশি আনন্দ থেকে বঞ্চিত। দামী পোশাকে ঈদ হয় না। ঈদ হয় না দামী খাবারে। ঈদের মজাতো সবার সাথে একত্রে থাকার। যাকেই প্রশ্ন করবেন সেই বলবে হিন্দীতে চুলের ঈদ কাটাইছি। মুখবই মোবাইল তুমিনল( ইউটিউব) সব আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে কী?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here